অম্বল / বুক জ্বালা (অ্যাসিড রিফ্লাক্স, GERD)
ডা. সঞ্জয় আনবু, MBBS-এর লেখা ও চিকিৎসাগত পর্যালোচনা
বাংলা অনুবাদ পর্যালোচিত: 2026-11-05অ্যাসিড রিফ্লাক্স হলো পাকস্থলীর অ্যাসিড উল্টে উপরে খাদ্যনালীতে (Oesophagus) উঠে আসা, যার ফলে বুক জ্বালা (Heartburn) হয়। এটি ঘন ঘন হলে একে GERD (গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ) বলে।
অম্বল / বুক জ্বালা নিয়ে MedDroid-কে জিজ্ঞাসা করুন →কারণ ও ঝুঁকি
- পাকস্থলীর উপরের ভালভ (লোয়ার ইসোফেজিয়াল স্ফিংক্টার) দুর্বল হওয়া
- অতিরিক্ত ওজন, যাতে পেটের উপর চাপ বাড়ে
- ভারী, তেলেভাজা বা ঝাল খাবার, আর রাত করে খাওয়া
- হায়াটাস হার্নিয়া — পাকস্থলীর একটা অংশ মধ্যচ্ছদা (ডায়াফ্রাম) দিয়ে উপরে উঠে যাওয়া
- ধূমপান, মদ, চা, কফি ও ঠান্ডা পানীয় (সোডা)
- গর্ভাবস্থা
সাধারণ লক্ষণ
পরীক্ষা ও রোগনির্ণয়
- প্রায়ই লক্ষণ দেখেই রোগনির্ণয় করা হয়
- আপার GI এন্ডোস্কোপি (বিপদ-সংকেত থাকলে বা উন্নতি না হলে)
- ২৪-ঘণ্টার ইসোফেজিয়াল pH পরীক্ষা
- CBC (রক্তাল্পতা আছে কি না দেখতে)
চিকিৎসা ও যত্ন
- প্রথমে জীবনযাত্রার পরিবর্তন: বাড়তি ওজন কমানো, অল্প অল্প করে খাওয়া, রাত করে না খাওয়া
- খাটের মাথার দিক উঁচু করা এবং সমস্যা বাড়ানো খাবার (ঝাল, তেলেভাজা, ক্যাফেইন, মদ) এড়ানো
- ধূমপান ছাড়া
- তাড়াতাড়ি আরামের জন্য অ্যান্টাসিড বা অ্যালজিনেট
- ডাক্তারের পরামর্শে প্রোটন-পাম্প ইনহিবিটর (PPI)-এর মতো অ্যাসিড কমানোর ওষুধ
- অপারেশন (ফান্ডোপ্লিকেশন) কদাচিৎ লাগে, শুধু ওষুধে না সারা গুরুতর ক্ষেত্রে
কখন সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখাবেন
- গিলতে অসুবিধা বা ব্যথা, বা খাবার আটকে যাওয়া
- রক্তবমি বা কালো, আলকাতরার মতো পায়খানা
- অকারণে ওজন কমা বা লাগাতার বমি
- চিকিৎসা সত্ত্বেও বারবার বুক জ্বালা ফিরে আসা
এটি রোগনির্ণয় নয়। MedDroid অম্বল / বুক জ্বালা সম্পর্কে শুধু সাধারণ তথ্য দেয়। এটি আপনাকে পরীক্ষা, রোগনির্ণয় বা ওষুধ লিখে দিতে পারে না। সবসময় যোগ্য ডাক্তারের সঙ্গে নিশ্চিত হোন। জরুরি অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে 108 বা 112-এ ফোন করুন।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
অ্যাসিড রিফ্লাক্স কি বিপজ্জনক?
মাঝেমধ্যে রিফ্লাক্স ক্ষতিকর নয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হওয়া GERD খাদ্যনালীতে প্রদাহ বা সরু হয়ে যাওয়া ঘটাতে পারে, তাই লাগাতার লক্ষণ থাকলে — বিশেষ করে গিলতে অসুবিধা হলে — ডাক্তার দেখানো উচিত।
কোন খাবারে রিফ্লাক্স বাড়ে?
সাধারণ কারণ হলো ঝাল ও তেলেভাজা খাবার, ভারী খাবার, চা, কফি, চকোলেট, ঠান্ডা পানীয়, মদ ও ধূমপান। রাত করে খাওয়াও এটি বাড়ায়।