মৃগী রোগ / খিঁচুনি (Epilepsy)
ডা. সঞ্জয় আনবু, MBBS-এর লেখা ও চিকিৎসাগত পর্যালোচনা
বাংলা অনুবাদ পর্যালোচিত: 2026-11-05এপিলেপসি (মৃগী রোগ) এমন একটা অবস্থা যেখানে মানুষের বারবার খিঁচুনি (Seizure) হওয়ার প্রবণতা থাকে — মস্তিষ্কে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ। খিঁচুনি কয়েক মুহূর্তের অন্যমনস্কতা থেকে শুরু করে সারা শরীরে কাঁপুনি পর্যন্ত নানা রকম হতে পারে।
মৃগী রোগ / খিঁচুনি নিয়ে MedDroid-কে জিজ্ঞাসা করুন →কারণ ও ঝুঁকি
- প্রায়ই কোনো স্পষ্ট কারণ পাওয়া যায় না
- আগে মাথায় আঘাত, স্ট্রোক বা সংক্রমণ
- মস্তিষ্কে টিউমার বা দাগ (স্কার)
- বংশগত (জিনগত) কারণ
- মস্তিষ্কের বিকাশে সমস্যা
- কখনও কখনও ঘুমের অভাব, মদ বা ঝলমলে আলো থেকে শুরু হয়
সাধারণ লক্ষণ
- খিঁচুনি (হাত-পা ঝাঁকুনি)
- শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা
- সচেতনতা বা জ্ঞান হারানো
- খিঁচুনির আগে অদ্ভুত অনুভূতি (অরা / Aura)
- শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ পড়ে যাওয়া
- খিঁচুনির পরে বিভ্রান্তি
পরীক্ষা ও রোগনির্ণয়
- EEG (মস্তিষ্কের তরঙ্গের পরীক্ষা)
- মস্তিষ্কের MRI
- CT স্ক্যান
- রক্ত পরীক্ষা
- ইলেক্ট্রোলাইট (Electrolytes — লবণের মাত্রা পরীক্ষা)
চিকিৎসা ও যত্ন
- খিঁচুনি-বিরোধী (অ্যান্টি-সিজার) ওষুধে বেশিরভাগ মানুষের খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে থাকে
- ঘুমের অভাবের মতো নিজের ট্রিগার চিনে এড়িয়ে চলা
- বাড়িতে, কাজে আর সাঁতার কাটা বা গাড়ি চালানোর সময় সাবধানতা
- ওষুধে কাজ না হওয়া কিছু বাছাই করা ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা অন্য চিকিৎসা
- চিকিৎসা ঠিক করতে নিয়মিত ডাক্তার দেখানো
কখন সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখাবেন
- ৫ মিনিটের বেশি চলা খিঁচুনি, বা একটার পর একটা খিঁচুনি — এখনই আপনার এলাকার জরুরি (ইমার্জেন্সি) নম্বরে ফোন করুন
- জীবনে প্রথমবার খিঁচুনি, বা আঘাত বা শ্বাসকষ্টসহ খিঁচুনি — এখনই আপনার এলাকার জরুরি (ইমার্জেন্সি) নম্বরে ফোন করুন
- আপনার সাধারণ খিঁচুনির ধরনে পরিবর্তন
- খিঁচুনির ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
এটি রোগনির্ণয় নয়। MedDroid মৃগী রোগ / খিঁচুনি সম্পর্কে শুধু সাধারণ তথ্য দেয়। এটি আপনাকে পরীক্ষা, রোগনির্ণয় বা ওষুধ লিখে দিতে পারে না। সবসময় যোগ্য ডাক্তারের সঙ্গে নিশ্চিত হোন। জরুরি অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে 108 বা 112-এ ফোন করুন।
প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
কারও খিঁচুনি হলে আমি কী করব?
তাঁকে নিরাপদে রাখুন: মাথার নিচে নরম কিছু দিন, আশেপাশের বিপজ্জনক জিনিস সরিয়ে দিন, আর ঝাঁকুনি থামলে পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিন। মুখে কিছু ঢোকাবেন না। ৫ মিনিটের বেশি চললে বা বারবার হলে জরুরি পরিষেবায় ফোন করুন।
মৃগী রোগীরা কি স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন?
হ্যাঁ। সঠিক ওষুধে বেশিরভাগ মানুষের খিঁচুনি বন্ধ হয়ে যায় বা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে, আর তাঁরা পূর্ণ জীবন কাটান। তবে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত গাড়ি চালানোর মতো কিছু কাজে নিয়ম থাকতে পারে।